জামাতি আলেম আবুল কালাম আজাদ বাশার
ফেসবুকে আজ নিম্নলিখিত পোস্ট করেন ।
আর এই কথাগুলি সালাফি আহলে হাদিস আলেমগণ যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন
→↓
↓↓
আসুন আত্নসমালোচনা করি,
নিজেদের কে আবার ঢেলে সাজাই।
রাজনীতি ও নির্বাচন একটি ইসলামী আন্দোলনের মূল কর্মসূচী হতে পারে না।
ইসলামী আন্দোলনের মূল কর্মসূচী হবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সংশোধন।
আল্লাহর কাছে সকল মানুষকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ইসলাম মেনে চলার ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।
সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম মেনে চলার ব্যাপারে সকল মুসলিমকে জবাবদিহি করতে হবে না।
এ ব্যাপারে যারা রাষ্ট্রীয় জীবনে দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা করে নি তারা এবং যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল তারা আল্লাহর কাঠগড়ায় আসামি হবে।
রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামী পরিবেশ থাকলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দ্বীন মেনে চলা সহজ হয়। আর ইসলামের ফৌজদারি বিধানগুলো কায়েম হলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ জন্যই সমাজ জীবনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত রাজনীতি ও নির্বাচন আবশ্যক। তাই ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলগণ গুরুত্বের সাথে এ কাজটি করে থাকেন।
কিন্তু এটাকে ইসলামী আন্দোলনের মূল কর্মসূচী মনে করা যাবেনা।
হাশরের ময়দানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের আমলের জবাব দিতে হবে।তাই কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত সকল করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সর্বদা সচেতন থেকে তাকওয়ার মাপকাঠিতে জীবন পরিচালনার ব্যাপারে জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
জনশক্তির তাকওয়া ও নৈতিক মান বৃদ্ধি করার জন্যে জ্ঞানচর্চা এবং প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
অথচ, অতিমাত্রায় রাজনীতি চর্চার কারণে জনশক্তির অনেকে নিয়মিত কুরআন, হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নের সময়ও পান না। জেল, জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে অনেক দায়িত্বশীল নিজের সন্তানের খবর নেয়ার সুযোগও পান না। এমনও দেখা যায়- বাবা নেতা, আর তার সন্তান টাখনুর নীচে কাপড় পরছে, দাড়ি কামাচ্ছে, খবর নেয়ার সময় নেই।
অথচ হাশরের মাঠে তাকে নিজ ও নিজ পরিবার সম্পর্কে কঠোরভাবে জবাবদিহি হবে।
মনে হয় আমরা ভুলতে বসেছি- রাজনীতি ও নির্বাচন ইসলামী আন্দোলনের অসংখ্য কর্মসূচির মধ্যে একটি কর্মসূচী মাত্র। এটা ইসলামী আন্দোলনের মোট কর্মসূচির 20% বা 30% হওয়া উচিৎ। কিন্তু এখন রাজনীতি ও নির্বাচন ইসলামী আন্দোলনের 80% জায়গা দখল করে নিয়েছে বলে অনুমিত হচ্ছে।
এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা ক্ষমতা চাই শুধু দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করার জন্য।
আমাদের সফলতা দ্বীন মানার মধ্যে, ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্যে নয়।
ইসলাম ক্ষমতায় আসলো, কিন্ত তখনো যদি কোন ব্যক্তি দ্বীন না মানে, সে কি মুক্তি পাবে?
আর ইসলাম ক্ষমতায় আসলো না, কিন্তু তারপরও যদি কেউ দ্বীন আকড়ে ধরে থাকে, সে কি মুক্তি পাবে না?
ইসলামকে ক্ষমতায় আনার জন্য আমরা দেশের কত পারসেন্ট লোককে আমাদের আন্দোলনে শরিক করতে পেরেছি? 10%? 15%? নাকি আরো বেশী?
যদি আর বেশী না হয়, তাহলে এখন রাজনীতি ও নির্বাচন বেশী দরকার? না কি দাওয়াতী কাজ বাড়ানো বেশী দরকার?
অতি রাজনীতির কারণে দাওয়াতী কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাই দওয়াতী কাজের পরিবেশ তৈরি করার জন্য রাজনীতির মাঠে কৌশলী হওয়া দরকার।
ফাউন্ডেশন দূর্বল রেখে, ইমারাত তৈরির কাজ শুরু করা ভাল ফলাফল বয়ে আনে না।
তাই আসুন- দাওয়াতী কাজ বাড়িয়ে দেই, জনশক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকওয়া ও নৈতিক মান বৃদ্ধি করি।
মোটেও হতাশা নয়।
মুমিন কখনো হতাশ হয় না।
আখেরাতের সফলতা যাদের লক্ষ্য, তারা হতাশ হতে পারে না।
আর,
ড, কামালদের মত লোকদের অধীনে থেকে 25 নয়, 50 আসন পেলেও দ্বীনের কী বা উপকার হতো? আর আসন না পাওয়াতে দ্বীনের কী বা ক্ষতি হয়েছে?
ড, কামাল সাহেবেরা কি সংসদে ইসলামের পক্ষের একটি আইন প্রণয়নেও সাপোর্ট করতো???
মোটেও না।
আবার ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার কারণে, বি এন পি'র চিন্তা ও আদর্শের বাহিরে গিয়ে সংসদে কোন কথা বলার সুযোগ থাকতো???
তাও না।
শুধু দাওয়াতী কাজের পরিবেশ টা একটু অনুকূল হতো, এই আর কি।
তাই আমাদের হারানোর কিছু নেই। শুধু কৌশলী হতে পারলে- দাওয়াতী কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরী হতে বেশী দিন লাগবে না। ইনশাআল্লাহ।