কাঠ প্রাকৃতিক নির্মাণ সামগ্রী । সাধারনত দরজা, জানালার পাল্লা ও চৌকাঠে , সিড়ি বা বারান্দার রেলিং তৈরিতে, অন্দরসজ্জা ও আসবাবপত্র নির্মাণে কাঠের ব্যবহার হয়ে থাকে।
চলুন জেনে নেই, ভালো কাঠ দেখে চেনার কিছু উপায়:
কাঠের কিছু কিছু জায়গায় অসার থাকতে পারে, কাঠের গাড় রঙের মাঝে সাদা থাকলে সেই কাঠে অসার আছে, এরকম কাঠে সহজেই ঘুন ধরে ।
কাঠের রঙ একই রকম উজ্জ্বল হবে, আর গাছের গোড়ার দিকের কাঠ অপেক্ষাকৃত ভালো মানের হয়।
ভালো কাঠ ওজনের একটু ভারী হবে, তবে ভেজা যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সিজনিং
ভালো মানের কাঠ পাওয়ার পর সিজনিং করে ব্যবহার করতে হবে।
কাঠের ভিতরের জলীয় অংশ উত্তমরুপে বের করে দেবার পদ্ধতিকে সিজনিং বলে। যথাযথভাবে সিজনিং করে ব্যবহার করা হলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে কাঠ সংকুচিত, প্রসারিত হবে না এবং বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
বেশ কয়েক পদ্ধতিতে সিজনিং করা যায়, চলুন দেখে নেই।
প্রাকৃতিক সিজনিং :
এ পদ্ধতিতে কাঠ প্রয়োজনীয় সাইজে কেটে একটার উপর একটা সাজিয়ে রেখে উপরে ছাউনি দিয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় পানি লাগে না, কিন্তু আলো-বাতাস পায়। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন নিচ থেকে স্যাতঁসেতে মাটি কাঠে স্পর্শ না করে।
এরপর স্টিম সিজনিং:
এই পদ্ধতিতে সাধারণত ভাল মানের ফার্নিচার নির্মাতারা ফ্যাক্টরিতে কাঠ সিজনিং করে থাকে।
স্টিমের সাহায্যে, ধোয়া দিয়ে অথবা কেমিক্যাল প্রয়োগ করে কাঠের স্টিম সিজনিং করা হয় ।এতে সময় কম লাগে।
এছাড়াও পানিতে ভিজিয়ে কাঠের সিজনিং করা যায়, এক্ষেত্রে কাঠ ও কাঠের গুড়ি বাকল ছাড়িয়ে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়। এরপর তা তুলে এনে কিছুদিন ছায়াতে রেখে দিলে সিজনিং ভালো হয়।